আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে ইমারাতে ইসলামিয়া। আগামী ৪ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্জন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; বরং আফগানিস্তানের প্রযুক্তি খাতকে নতুনভাবে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল সেবা, শিক্ষা, শিল্প, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাবির লতিফি হাফিযাহুল্লাহ জানান, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন জনগণের সামনে উপস্থাপন করা, প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
ভবিষ্যতে ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন অংশীদার দেশের সহযোগিতায় যৌথ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী আয়োজন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রযুক্তি খাতে এমন উদ্যোগ আফগানিস্তানের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগের জন্য এটি অভিজ্ঞতা বিনিময়, নতুন অংশীদার খুঁজে পাওয়া এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ পাবে, যা প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক জ্ঞান বিনিময়ে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলে আফগানিস্তানের প্রযুক্তি খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃশ্যমান হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও নতুন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা আরও জোরদার হতে পারে। পাশাপাশি এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
