উত্তর আমেরিকার আর্কটিক অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় পরিসরের যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত আলাস্কা ও গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘আর্কটিক এজ’ মহড়ায় উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা সুরক্ষা, দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিরোধ এবং ছোট আকারের ড্রোন মোকাবিলার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। মহড়াটি পরিচালনা করে নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন কমান্ড।
মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের পাশাপাশি ডেনমার্ক, আলাস্কা ন্যাশনাল গার্ড এবং একাধিক বেসামরিক সংস্থা অংশ নেয়। আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ, কোডিয়াক, ফেয়ারব্যাংকস ও কোটজেবু এবং গ্রিনল্যান্ডের কানগেরলুসুয়াক ও নুকের আশপাশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গ্রিনল্যান্ডে সব সামরিক কার্যক্রম ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হয়।
মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য ছিল আর্কটিক অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি শনাক্ত, অনুসরণ ও প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাহিনীর সমন্বয় আরও কার্যকর করা। এর অংশ হিসেবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং ছোট আকারের চালকবিহীন আকাশযান মোকাবিলার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুশীলনও করা হয়েছে।
আর্কটিক অঞ্চলে কঠিন আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক দূরত্ব সামরিক অভিযান পরিচালনাকে জটিল করে তোলে। তাই এই ধরনের মহড়ায় শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনা নয়, যোগাযোগ, কমান্ড ব্যবস্থা, সরবরাহ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিকূল পরিবেশে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডের পিতুফিক ঘাঁটিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ‘নোবেল ডিফেন্ডার’ অভিযানের মাধ্যমে আর্কটিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করেছিল। সেই অভিযানে এফ-১৬, সিএফ-১৮, আকাশপথে সতর্কীকরণ বিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অংশ নেয়।
২০২৬ সালের আর্কটিক এজ মহড়াকে তাই উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও প্রস্তুত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। বিশেষ করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট ড্রোনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় যৌথ শনাক্তকরণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তবে সরকারি বিবরণে মহড়াটিকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
