অর্থনীতি•Aug 9, 2026•5 min read

বাংলাদেশের ৪২ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান ।

স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|অর্থনীতি

বাংলাদেশের ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ৪২টি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশি সম্পদ খুঁজতে ৮টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ৪২ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান ।

বাংলাদেশে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে—এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ কাজে ৮টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব হলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো জব্দ বা আটকের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ৯ আগস্ট এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য বিদেশি সম্পদের অনুসন্ধান করছে। কোনো সম্পদ শনাক্ত হলে সেটি আইনগতভাবে জব্দ বা আটকের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় সম্পদ নিষ্পত্তি বা বিক্রি করা সম্ভব হলে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করবে। অর্থাৎ কাজ শুরুর সময় বাংলাদেশকে অগ্রিম পারিশ্রমিক বা খরচ দিতে হবে না। বিদেশে সম্পদ শনাক্ত করা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উদ্ধার করা সম্ভব হলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের সম্ভাব্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এসব দেশে ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ, সম্পদ কিংবা বিনিয়োগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ একটি বড় সমস্যা। দেশে থাকা সম্পদ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বাইরে বিদেশে অর্থ ও সম্পদ থাকলে সেগুলো শনাক্ত করে দেশে ফেরানো আইনগত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই জটিল। প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন, আদালতের অনুমোদন এবং সম্পদের মালিকানা প্রমাণের মতো বিষয় এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এর আগে বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, শুল্ক ও আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং বিভিন্ন ব্যাংক কাজ করছে।

নতুন উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য শুধু বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান করা নয়; বরং আইনগতভাবে সেগুলো উদ্ধার করে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে ঋণখেলাপির অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো। তবে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের কথিত প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ থেকে কত অর্থ বাস্তবে শনাক্ত, জব্দ ও দেশে ফেরানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে অনুসন্ধান, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

সম্পর্কিত খবর

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।

সিআইএর গোপন মূল্যায়ন: গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় ধসের ঝুঁকিতে ইসরায়েল

গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আকাশ সুরক্ষায় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক: মার্কিন স্পেস ফোর্সের নতুন 'SPACEFOR-NORTH' মহাকাশ ডিফেন্স গ্রিড

উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।

পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।