জাতীয়May 24, 20263 min read

বিচারহীনতা, নৈতিক অবক্ষয় ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা: কেন বাড়ছে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা?

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

বাংলাদেশে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে বিচারহীনতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সামাজিক অবক্ষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন:
বিচারহীনতা, নৈতিক অবক্ষয় ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা: কেন বাড়ছে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা?

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতনের পর হত্যা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, বিচারহীনতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং দুর্বল নৈতিক কাঠামোর সম্মিলিত প্রতিফলন। সবচেয়ে বড় সংকট হলো—অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হয় না। দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বহু ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে সমাজে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ক্ষমতা বা অর্থ থাকলে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতাও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিতে গড়িমসি, তদন্তে অনিয়ম এবং প্রভাবশালী মহলের চাপের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা তরুণদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন। ভোগবাদী সংস্কৃতি ও কিছু গণমাধ্যমে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতাও নারীর প্রতি সম্মানবোধ দুর্বল করছে।

পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, আত্মসংযম, মানবিকতা এবং নারীকে সম্মান করার শিক্ষার ঘাটতিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্তানদের মানসিক বিকাশ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সামাজিক আচরণের ওপর পারিবারিক নজরদারি কমে যাওয়ায় সহিংস ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব বাড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক নীরবতা ও ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি অনেক পরিবারকে ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করছে, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল আইন কঠোর করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। অপরাধ দমনে দ্রুত ও নিশ্চিত বিচার, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শিশু ও নারীবান্ধব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ পুনর্গঠন প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন নারী ও শিশু নিরাপদ থাকবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

ইরান যুদ্ধে এশিয়ায় কমছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, উদ্বিগ্ন মিত্ররা

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ায় এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতির কিছু অংশ কমেছে। এতে চীনের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কায় আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।