জাতীয়•Jul 30, 2026•5 min read

ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের, ব্যয় ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।

স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|জাতীয়

জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুরে ২টি সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

শেয়ার করুন:
ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের, ব্যয় ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব পদ্ধতিতে ভোলা-বরিশাল এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর—এই ২টি বৃহৎ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প ২টির মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ৩.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাপানি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আর্থিক কাঠামো, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হলে দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল ও ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ফেরির ওপর নির্ভর করতে হয়, ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই বেশি হয়। সেতুটি নির্মাণ হলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও শিল্পখাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। একইভাবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মিত হলে পদ্মা ও মেঘনা নদী অববাহিকার গুরুত্বপূর্ণ ২টি অঞ্চল সরাসরি যুক্ত হবে। এতে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও নতুন গতি আসবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সেতু ২টি নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পাঞ্চল, পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন কেন্দ্র, পর্যটন এলাকা এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সব ধরনের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সরকারের অনুমোদন এবং বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ২টি সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে, জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্পর্কিত খবর

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।

সিআইএর গোপন মূল্যায়ন: গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় ধসের ঝুঁকিতে ইসরায়েল

গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আকাশ সুরক্ষায় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক: মার্কিন স্পেস ফোর্সের নতুন 'SPACEFOR-NORTH' মহাকাশ ডিফেন্স গ্রিড

উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।

পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।