মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, সর্বশেষ রাতভর অভিযানে তারা ইরানের অন্তত ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত তিন রাতের ধারাবাহিক অভিযানে ইরানের ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলো মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, তিন রাতের অভিযানে ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দফা হামলা চালায়। সেন্টকম জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৮০টির বেশি এবং পরবর্তী ধাপে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং এর দায় ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থান বজায় রাখায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।