ওয়াশিংটন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চীনের দ্রুত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা তাদের ‘ক্লড কোড’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী কিছু চীনা ব্যবহারকারীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি যাচাই করার চেষ্টা করছিল চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিজেদের মডেল উন্নত করছে কি না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রোপিকের আশঙ্কা ছিল যে চীনের আলিবাবা, ডিপসিক, মুনশট এবং মিনিম্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তথাকথিত ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্লডের উত্তর বিশ্লেষণ করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। ডিস্টিলেশন এমন একটি প্রযুক্তিগত কৌশল, যেখানে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে বিপুল সংখ্যক প্রশ্ন করা হয় এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত উত্তরগুলো ছোট বা নতুন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। অ্যানথ্রোপিকের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া ব্যবহারকারী পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যাতে তারা সরাসরি নজরে না আসে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বিষয়টি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের মূল কারণ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নয়, বরং চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের দ্রুত উত্থান। কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি অঙ্গনে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, চীন এই খাতে অনেক বছর পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চীনের একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল কর্মক্ষমতা, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, চীনের এই অগ্রগতি কি শুধুই বিদ্যমান প্রযুক্তি অনুসরণের ফল, নাকি তারা নিজস্ব উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতা শুধু বাণিজ্যিক নয়; এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব, তথ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে এই প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।
চীনা এআইয়ের উত্থানে আতঙ্কিত মার্কিন এআই জায়ান্টরা!
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত অগ্রগতিতে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।