প্রযুক্তিJul 10, 20264 min read

চীন প্রথমবারের মত পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

চীন প্রথমবারের মতো পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই সাফল্য বৈশ্বিক মহাকাশ প্রযুক্তি ও উৎক্ষেপণ বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:

চীন প্রথমবারের মতো পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে মহাকাশ প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে দেশটি এমন একটি প্রযুক্তি বাস্তবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে, যা এতদিন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, মহাকাশে অভিযান সম্পন্ন করার পর রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং তা পুনরায় ব্যবহার করা যায়। প্রচলিত রকেটের ক্ষেত্রে উৎক্ষেপণের পর অধিকাংশ অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রতিবার নতুন রকেট তৈরি করতে হয়, ফলে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি একই রকেট একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে, যার ফলে উৎক্ষেপণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এবং মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। গত এক দশকে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ বিশ্ব মহাকাশ শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং এখন চীনের এই অগ্রগতি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অন্যতম শক্তি হলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা। ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চগতির রেলপথের মতো বিভিন্ন খাতে দেশটি ইতোমধ্যেই এই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। একই ধারা মহাকাশ প্রযুক্তিতেও বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ব্যয় আরও কমতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোও তুলনামূলক কম ব্যয়ে নিজস্ব উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপগ্রহ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজলভ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মহাকাশ শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, চীনের এই সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেলে উৎক্ষেপণ ব্যয় আরও কমবে, নতুন উদ্ভাবনের গতি বাড়বে এবং সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী ১০ বছরে মহাকাশ শিল্পের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। চীনের সাম্প্রতিক এই সাফল্য সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে এবং মহাকাশকে কেবল কয়েকটি উন্নত দেশের সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র থেকে বের করে আরও বেশি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজলভ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।