আন্তর্জাতিকJul 14, 20265 min read

চীনই এখন বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নির্ধারক।

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের তেল আমদানি কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে তেলের দামে দেশটির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন:
চীনই এখন বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নির্ধারক।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক তেলের মূল্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে এসেছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট, যারা উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করত। তবে ২০২৬ সালে এসে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্র ধীরে ধীরে উৎপাদকদের হাত থেকে সরে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীনের দিকে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পারস্য উপসাগর থেকে সমুদ্রপথে বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ হওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই আশঙ্কা পুরোপুরি সত্য হয়নি। সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৯৯ ডলারে পৌঁছালেও তা এপ্রিল মাসে দেখা ১১৫ ডলারের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করে। বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ চীনের তেল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পতন। মে মাসের শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও এই কম চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এই অবস্থাকে বৈশ্বিক ধাক্কা শোষণকারী ভারসাম্য হিসেবে বর্ণনা করছেন। চীনের তেল চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার গড়ে ওঠা, উচ্চগতির রেলব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিল্পখাতে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কিছু শোধনাগারের উৎপাদন কমে যাওয়া এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে কৌশলগত তেল মজুদের ব্যবস্থাপনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, চীন যদি আবার বড় পরিসরে তেল আমদানি শুরু করে, তাহলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। বিপরীতে চাহিদা সীমিত থাকলে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক বাজার শুধু উৎপাদনকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নয়, বরং চীনের আমদানি নীতি, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং জ্বালানি চাহিদার পরিবর্তনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে নজর রাখছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট হচ্ছে, তেলের মূল্য নির্ধারণে এখন শুধু উৎপাদক নয়, বৃহৎ ভোক্তারাও সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, আর সেই প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্রমেই উঠে আসছে চীন।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।