প্রযুক্তিAug 14, 20264 min read

মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি গতি! ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

চীনের হুবেইয়ে পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ যান ৫.৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করেছে, যা উচ্চগতির পরিবহন প্রযুক্তিতে নতুন রেকর্ড।

শেয়ার করুন:
মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি গতি! ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

চীনের হুবেই প্রদেশের ইস্ট লেক গবেষণাগারে ম্যাগলেভ প্রযুক্তির পরীক্ষায় নতুন গতি-রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ১.১ টনের বেশি ওজনের একটি পরীক্ষামূলক যান মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছেছে। ১,০০০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক পথে পরিচালিত এই পরীক্ষায় যানটি প্রায় ৬০০ মিটার অতিক্রম করার সময় সর্বোচ্চ গতি অর্জন করে এবং প্রায় ৮ সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে থামে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘২০০ মিটারের মধ্যে থামানো হয়েছে’—এমন দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ৮০০ কিলোমিটার/ঘণ্টার সর্বশেষ পরীক্ষার সরকারি প্রতিবেদনে নির্দিষ্টভাবে ২০০ মিটার ব্রেকিং দূরত্ব উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৫ সালের আগের ৬৫০ কিলোমিটার/ঘণ্টার পরীক্ষায় অবশ্য ২২০ মিটারের মধ্যে পরীক্ষামূলক যান থামানোর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।

নতুন এই সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই গবেষণা প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি তৃতীয় গতি-রেকর্ড। ২০২৫ সালের জুনে গবেষকরা ১.০৩ টন ওজনের একটি পরীক্ষামূলক যানকে ৭.১ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরবর্তী জুলাইয়ে গতি ৭০০ কিলোমিটার/ঘণ্টায় উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ পরীক্ষায় ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা অর্জনের মাধ্যমে আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

ম্যাগলেভ ব্যবস্থায় প্রচলিত রেলযানের মতো চাকা ও রেলের সরাসরি ঘর্ষণের ওপর নির্ভর করতে হয় না। চুম্বকীয় উত্তোলন ও দিকনির্দেশনা এবং তড়িৎচুম্বকীয় চালনা ব্যবস্থার মাধ্যমে যানকে পরীক্ষামূলক পথে এগিয়ে নেওয়া হয়। এতে ঘর্ষণজনিত সীমাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হলেও অত্যন্ত উচ্চগতিতে বায়ুর চাপ, যানটির স্থিতিশীলতা, দ্রুত যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, চালনা ব্যবস্থার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ থামানো বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় উচ্চগতির বায়ুগতীয় স্থিতিশীলতা, দ্রুত যোগাযোগ এবং রৈখিক মোটরের নির্ভুল নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। ফলে এই পরীক্ষাকে সরাসরি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতির যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক যান ও উচ্চগতির প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই।

চীনা গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার ভবিষ্যতে দ্রুতগতির রেল পরিবহনের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। অতি উচ্চগতির পরিবহন, তড়িৎচুম্বকীয় উৎক্ষেপণ, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উচ্চগতির পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে বর্তমান পরীক্ষাকে প্রচলিত রকেটের বিকল্প হিসেবে দেখার মতো পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে, চীনের সর্বশেষ পরীক্ষার গুরুত্ব বাণিজ্যিকভাবে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতির ট্রেন চালুর মধ্যে নয়; বরং অতি অল্প সময়ে অত্যন্ত উচ্চ গতি অর্জন এবং একই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্যে। ৬৫০ থেকে ৭০০ হয়ে ৮০০ কিলোমিটার/ঘণ্টায় পৌঁছানোর এই অগ্রগতি দেখাচ্ছে, উচ্চগতির ম্যাগলেভ ও তড়িৎচুম্বকীয় চালনা প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিতে চীন ধারাবাহিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, অবকাঠামো, শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতার আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।