জাতীয়Jul 18, 20264 min read

১৫ বছরের ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে এগোচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২: বছরে সাশ্রয় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা, কমবে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় ।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্পে অগ্রগতি হওয়ায় দেশের জ্বালানি শোধন সক্ষমতা বাড়বে। বছরে প্রায় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হতে পারে।Z

শেয়ার করুন:
১৫ বছরের ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে এগোচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২: বছরে সাশ্রয় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা, কমবে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় ।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আটকে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো প্রকল্প ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ বাস্তবায়নের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল শোধন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যমান শোধনাগারের সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। ফলে দেশের অধিকাংশ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশেই তা শোধন করা সম্ভব হবে, ফলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেল শোধনে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। এর ফলে বছরে প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নও যুক্ত থাকবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে শোধিত জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে, যার ইতিবাচক প্রভাব পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। তবে শুধু এই প্রকল্প চালু হলেই বাজারে চাল, ডাল, পেঁয়াজ বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সরাসরি কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কারণ বাজারদর নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, কর কাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনাসহ একাধিক বিষয় একযোগে ভূমিকা রাখে। নতুন শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা যানবাহনের নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে ২০৩০ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।