দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আটকে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো প্রকল্প ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ বাস্তবায়নের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল শোধন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যমান শোধনাগারের সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। ফলে দেশের অধিকাংশ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশেই তা শোধন করা সম্ভব হবে, ফলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেল শোধনে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। এর ফলে বছরে প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নও যুক্ত থাকবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে শোধিত জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে, যার ইতিবাচক প্রভাব পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। তবে শুধু এই প্রকল্প চালু হলেই বাজারে চাল, ডাল, পেঁয়াজ বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সরাসরি কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কারণ বাজারদর নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, কর কাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনাসহ একাধিক বিষয় একযোগে ভূমিকা রাখে। নতুন শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা যানবাহনের নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে ২০৩০ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
১৫ বছরের ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে এগোচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২: বছরে সাশ্রয় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা, কমবে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় ।
ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্পে অগ্রগতি হওয়ায় দেশের জ্বালানি শোধন সক্ষমতা বাড়বে। বছরে প্রায় ৫,৭৮৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হতে পারে।Z

সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।