বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেয় ‘বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান’। তাদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় ভারতের নতুন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)।
শনিবার সকালে কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশন এলাকা থেকে দুই সংগঠনের ব্যানারে মিছিল বের করা হয়। এতে বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী এবং এনসিপিআইয়ের প্রায় ৬০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
মিছিলটি বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা জোরদার করে কলকাতা পুলিশ। মিশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলের পথ আটকে দেওয়া হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপ-হাইকমিশন সংলগ্ন কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
পুলিশের বাধায় বিক্ষোভকারীরা সরাসরি উপ-হাইকমিশনের সামনে যেতে পারেননি। পরে মিশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। তারা বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কিছু সময় মিশনের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে এনসিপিআই নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য দলটি গঠন করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে দলটির একটি অংশ বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ধর্মীয় সংগঠনের কর্মীদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বাংলাদেশ মিশন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
