কৌশলগত জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে
নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
সপ্তাহান্তে উভয় পক্ষের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম জিএমটি সময় ০৫:৫০ পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে রোববার এক সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থ দফায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” বন্ধ থাকবে। তবে সেন্টকম এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সোমবার ভোরে দাবি করে, তারা কুয়েতে অবস্থিত দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং এতে জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে।
তেহরান আরও দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
পরে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা বন্দর আব্বাসের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌপরিবহন এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির আশায় তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই পতনের একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার করেছে তেলের বাজার।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনাকেও দুর্বল করে দিয়েছে। তেহরান বলেছে, নতুন কোনো আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের তেল রপ্তানি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
