যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস ওপেনএআইকে তাদের আসন্ন জিপিটি-৫.৬ মডেলটি আপাতত সীমিত পরিসরে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেলটির উন্নত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই অনুরোধ করেছে। এর ফলে মডেলটি শুরুতে কেবল সরকার-অনুমোদিত সীমিত সংখ্যক অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে উন্নত সক্ষমতার আরেকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে ঘিরেও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই প্রেক্ষাপটে জিপিটি-৫.৬ মডেলের সক্ষমতাও নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে মডেল উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা নয়। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অনুমোদননির্ভর প্রবেশাধিকার ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকলে সাধারণ ব্যবহারকারী, নির্মাতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা গবেষক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই ভবিষ্যতের জন্য আরও স্থায়ী, স্বচ্ছ এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য একটি নীতিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনও জানিয়েছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি থেকে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। চলতি মাসের শুরুতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রকাশের অন্তত ৩০ দিন আগে স্বেচ্ছায় সরকারি পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণ হয়নি। ফলে কোন সংস্থা কীভাবে এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে শিল্পখাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ধারাবাহিক এবং পূর্বনির্ধারিত নীতির ভিত্তিতে। অন্যথায় অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উদ্ভাবন ও বিকাশের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
