আফগানিস্তান থেকে আসা বলে দাবি করা জঙ্গি হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তান ‘লক্ষ্যভিত্তিক’ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে ২৭৭তম কোর কমান্ডার্স কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করার সময় এসব কথা বলেন আসিম মুনির। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৈঠকে আফগানিস্তান থেকে ‘উৎপন্ন সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো এবং আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সামরিক কমান্ডাররা।
পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের অভিযোগ, তালেবান কর্তৃপক্ষ ভারতের হয়ে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতির জন্য তালেবান নেতৃত্বকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করেছে পাকিস্তান। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। আফগান তালেবানও পাকিস্তানে হামলাকারী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় বা সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এর মধ্যেই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ১ অক্টোবর পাকিস্তান জানায়, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানায় ‘সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত’ হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ২২ জঙ্গি নিহত এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করে দেশটি।
তবে আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তানের হামলায় আবাসিক এলাকা আক্রান্ত হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (UNAMA) জানিয়েছে, কুনার ও হেলমান্দে এসব হামলায় অন্তত ১০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।
পাকিস্তান-আফগানিস্তানের চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কাবুলে রাশিয়ার দূতাবাসও। সংঘাতের কারণে শিশুদেরসহ বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে তারা।
দুই দেশের মধ্যে কিছুটা স্থিতিশীল পরিস্থিতির পর নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে তালেবান সরকার। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকটকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ বক্তব্যে সীমান্তপারের অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষও পাকিস্তানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং উভয় দেশের বেসামরিক জনগণের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: KHAMA Press
