জাতীয়Aug 20, 20264 min read

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কাতারের।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কাতার। দোহায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কাতারের।

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। ১৯ আগস্ট ২০২৬ দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প, অতিরিক্ত সরবরাহ বা অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে এই আশ্বাসকে তাৎক্ষণিক কোনো নির্দিষ্ট জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জন্য কাতারের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাতার দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় কাতারের সহযোগিতার আশ্বাস ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় তাৎপর্য বহন করতে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে কাতারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান শেখ মোহাম্মদ এবং দায়িত্ব পালনে কাতারের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কাতার সফরের প্রথম দিনেও বাংলাদেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুওয়ারীর সঙ্গে আলোচনায় বিনিয়োগ, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। পরে কাতার এনার্জির সদর দপ্তরে জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সফরে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, কাতারের আশ্বাস বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা না হলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা নির্দিষ্ট সরবরাহ, বিনিয়োগ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে রূপ নেয় কি না, সেটিই হবে এর বাস্তব গুরুত্ব নির্ধারণের প্রধান বিষয়।

সম্পর্কিত খবর

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ১,৩১১ কোটি টাকা ব্যয়ে রামু ক্যান্টনমেন্টকে পূর্ণাঙ্গ সেনা ঘাঁটি বানানো হচ্ছে।

কক্সবাজারের রামু সেনানিবাস উন্নয়নে ১,৩১১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, যার লক্ষ্য আবাসন ঘাটতি পূরণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানো।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন শাহবাজ শরিফ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শাহবাজ শরিফ। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হয়েছে।

রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচে ৬০ বছরেরও বেশি সময় পর উদ্ধার জার্মান ‘প্যান্থার’ ট্যাংক

রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজের সময় মাটির নিচে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান প্যান্থার ট্যাংক উদ্ধার হয়েছে।

মাদুরোর মুক্তি নিয়ে নীরব ভেনেজুয়েলার সরকার

ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের সঙ্গে প্রায় ২ সপ্তাহের আলোচনায় মাদুরোর মুক্তির দাবি ওঠেনি; নির্বাচন, অর্থনীতি ও পুনর্গঠন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।