৪ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রাস তানুরা রিফাইনারি ও তেল সংরক্ষণ স্থাপনাকে ঘিরে ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের হামলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে হামলাটি ইয়েমেনি হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা কি না—এ বিষয়ে সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট নিশ্চিতকরণ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাস তানুরা সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। এখানে রয়েছে দেশটির বৃহত্তম দেশীয় রিফাইনারিগুলোর একটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল। রিফাইনারিটির দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। ফলে স্থাপনাটিতে হামলার যেকোনো ঘটনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালের মার্চে রাস তানুরা কমপ্লেক্সে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ২ মার্চ ড্রোন হামলার পর রিফাইনারিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দুটি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ স্থাপনার কাছে পড়ে সীমিত ক্ষতি করে। তবে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
এর দুই দিন পর, ৪ মার্চ, রাস তানুরা আবারও একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতের খবর সামনে আসে। রয়টার্সের চারটি সূত্র ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও তখনও হামলার সুনির্দিষ্ট উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পরিষ্কার ছিল না। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরে জানায়, ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছিল এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে কোনো ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায়নি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাম্প্রতিক রাস তানুরা ঘটনার সঙ্গে হুথিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং মার্চের ঘটনাগুলো নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো হামলাকে ইরান-সম্পর্কিত আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেখিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছে যে রাস তানুরা অতীতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছিল।
অন্যদিকে, ৩ অক্টোবর ২০২৬ হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে একটি আরামকো স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তখনও হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
কেন রাস তানুরা এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাস তানুরা শুধু একটি রিফাইনারি নয়; এটি সৌদি আরবের বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হলে শুধু সৌদি আরব নয়, এশিয়া ও ইউরোপের তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কা বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মার্চের হামলার সময়ও রাস তানুরার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন ঝুঁকি
রাস তানুরাকে লক্ষ্য করে যেকোনো সফল হামলা সৌদি আরবের জন্য শুধু নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। কারণ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য।
২০১৯ সালে আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
রেফারেন্স: রয়টার্স, Saudi Ministry of Defense/Saudi Press Agency-ভিত্তিক প্রতিবেদন, Argus Media, The National.
