রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে—এটি নিশ্চিত; তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে এসেছে কি না তা প্রকাশ করা হয়নি। বরং আগের নির্ধারিত ফ্লাইট পাকিস্তানের ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় আটকে গিয়েছিল।
পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়েই রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এলো ইউরেনিয়ামবাহী জাহাজ।
৩ অক্টোবর ২০২৬
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা প্রথম দফার পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ঢাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪৩–৪৫ মিনিটে বিশেষ কার্গো বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের Ilyushin Il-76 কার্গো বিমানে করে এই পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।
এই চালানটি মূলত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আসেনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে আসা বিমানটির নির্ধারিত রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রুটে আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারত ছিল। তবে পরবর্তীতে পাকিস্তান হাইকমিশন বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করে। ফলে নির্ধারিত চালান পিছিয়ে যায় এবং রাশিয়া নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে।
২ অক্টোবর রাতে বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা জ্বালানি গ্রহণ করেন। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom-এর মাধ্যমে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে ২০০টির বেশি assembled fuel element বাংলাদেশে আসার কথা। এর মধ্যে ১৬৩টি fuel assembly দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এবং বাকি চালান প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি VVER-1200 রিঅ্যাক্টর রয়েছে এবং কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে।
রূপপুরের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে আকাশপথের অনুমতি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক বিষয়, সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি তা স্পষ্ট করেছে। প্রথম চালানটি পাকিস্তানের ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। পরে জটিলতা দুর করে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
