জাতীয়Jul 2, 20264 min read

সীতাকুণ্ডে সেনাবাহিনীর নতুন সমরাস্ত্র কারখানার জন্য ৫৫ একর জমির অনুমোদন।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

সীতাকুণ্ডে ৫৪.৯৯ একর জমিতে সেনাবাহিনীর নতুন সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। লক্ষ্য দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি।

শেয়ার করুন:
সীতাকুণ্ডে সেনাবাহিনীর নতুন সমরাস্ত্র কারখানার জন্য ৫৫ একর জমির অনুমোদন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৫৪.৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন সমরাস্ত্র উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত সরকারি সিদ্ধান্তে জানানো হয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সমরাস্ত্র কারখানার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প কেবল সামরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের অনেক দেশই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের এই উদ্যোগকেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড অঞ্চল ইতোমধ্যেই ভারী শিল্প, ইস্পাত কারখানা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বন্দরসংলগ্ন শিল্প অবকাঠামোর জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে সেখানে নতুন সমরাস্ত্র উৎপাদন কারখানা স্থাপিত হলে এলাকাটির কৌশলগত ও শিল্পগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে এই কারখানায় ঠিক কী ধরনের সমরাস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, প্রকল্পে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ কত, নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম কবে থেকে চালু হবে—এসব বিষয়ে সরকার এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই প্রকল্পটির পরবর্তী অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।