মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন প্রায় ১,৩০০ মার্কিন সেনার অবস্থান, চলাচল ও দৈনন্দিন গতিবিধির তথ্য শরীরচর্চার একটি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে প্রকাশ্যে চলে আসায় নতুন করে সামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌড়, হাঁটা ও সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চার কার্যক্রম নথিবদ্ধ ও ভাগাভাগি করার জন্য ব্যবহৃত স্ট্রাভা নামের অ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অবস্থানরত সেনাদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে এমন কিছু সামরিক স্থাপনার অবস্থানও উঠে এসেছে, যেগুলো সাধারণ অনলাইন মানচিত্রে চিহ্নিত ছিল না।
ঘটনাটির মূল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে অ্যাপটির অবস্থান শনাক্তকরণ সুবিধা থেকে। কোনো ব্যবহারকারী শরীরচর্চার সময় নিজের চলাচলের পথ, অবস্থান ও কার্যক্রম প্রকাশ করলে নিয়মিত ব্যবহারের ধরন থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। সামরিক সদস্যরা একইভাবে এই সুবিধা ব্যবহার করলে শুধু একজন ব্যক্তির অবস্থান নয়, বরং একটি সামরিক স্থাপনার অবস্থান, প্রবেশ ও বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ এবং সদস্যদের দৈনন্দিন চলাচলের ধরন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত শরীরচর্চার তথ্যও সামরিক নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অবস্থান পরিবর্তনের তথ্যও এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। এরপর ওই এলাকাগুলোতে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাপে প্রকাশিত অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যই এসব হামলার সরাসরি কারণ ছিল—এমন সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাই ঘটনাগুলোর মধ্যে সময়গত সম্পর্ক থাকলেও সরাসরি কারণ হিসেবে এটিকে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা যায় না।
অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি নিয়ে অবশ্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আগে থেকেই সতর্ক ছিল। ২০১৮ সালে স্ট্রাভা ও একই ধরনের অবস্থান শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক সদস্যদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল জিপিএস ও অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধার মাধ্যমে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য প্রকাশের আশঙ্কা। কিন্তু সেই বিধিনিষেধের পরও কিছু সেনা সদস্য অ্যাপটি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝুঁকিটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে নিয়মিত চলাচলের তথ্য প্রকাশিত হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনা দেখাচ্ছে, আধুনিক সামরিক নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র, নথি বা সরাসরি গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি স্মার্টফোন ও শরীরচর্চার অ্যাপে জমা থাকা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে কোনো সদস্যের নিয়মিত চলাচলের পথ প্রকাশিত হলে সামরিক স্থাপনা ও কর্মীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রযুক্তি ব্যবহারে তথ্য সুরক্ষা এখন সামরিক নিরাপত্তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
