সিরিয়া ও তুরস্ক খনিজ অনুসন্ধান, ভূতাত্ত্বিক গবেষণা এবং জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করতে ৫ বছরের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ দামেস্কের তিশরিন প্রাসাদে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় সিরিয়ার খনিজ খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং তুরস্কের খনিজ গবেষণা ও অনুসন্ধান অধিদপ্তর ও এর আন্তর্জাতিক খনিজ প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ, খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা যাচাই, অনুসন্ধান, উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর ফলে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত বা অপর্যাপ্তভাবে অনুসন্ধান করা খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তুরস্কের আন্তর্জাতিক খনিজ প্রতিষ্ঠান বিদেশে খনিজ অনুসন্ধান, গবেষণা ও বিনিয়োগে কাজ করে। ভূতাত্ত্বিক, ভূ-পদার্থবিজ্ঞান ও ভূ-রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্পদ অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা সিরিয়ার জন্য প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির পর সিরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পুনর্গঠনে এই ধরনের সহযোগিতা ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই দেশের খনিজ সহযোগিতার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট খনিজ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা সিরিয়ায় খনিজ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এপ্রিল মাসে সিরিয়ার ভূতত্ত্ব ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মহাপরিচালক তুরস্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর পরিদর্শন করে সম্ভাব্য যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। একই সময়ে সিরিয়া নিজস্ব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিরীয় খনিজ প্রতিষ্ঠানও গঠন করেছে। এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার জারির করা ডিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার সদর দপ্তর দামেস্কে এবং খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা রয়েছে।
খনিজ খাতের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতাও দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। ১৯ আগস্ট তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার জানান, আঙ্কারা সিরিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। দুই দেশ বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে এগোচ্ছে। অর্থাৎ খনিজ অনুসন্ধানের এই সমঝোতা বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি অংশ হয়ে উঠছে।
সিরিয়ার জন্য এর সম্ভাব্য গুরুত্ব বহুমাত্রিক। প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান বাড়লে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তর দেশটির নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, সিরিয়ার খনিজ ও কাঁচামাল সম্পদে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার তুরস্কের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করতে পারে।
সিরিয়ার অর্থনীতি ও শিল্পমন্ত্রী নিদাল আল-শা'র জুনে তুরস্ককে সিরিয়ার ‘প্রাকৃতিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে উৎপাদন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৫ বছরের এই সমঝোতা শুধু খনিজ অনুসন্ধানের চুক্তি নয়; বরং যুদ্ধোত্তর সিরিয়ার পুনর্গঠন, সম্পদ উন্নয়ন এবং তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
