তাইওয়ানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা ড্রোনে চীনে তৈরি চিপ, উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ব্যবহারের অভিযোগে ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহব্যবস্থায় চীনা প্রযুক্তির সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে তাইপেই বিশেষভাবে সতর্ক।
তাইওয়ান নিউজের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের একজন একটি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং অন্যজন আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি কর্মকর্তা। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য সরবরাহ করা ড্রোনে চীনা তৈরি চিপ, উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ বোর্ডসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল। শুধু যন্ত্রাংশ ব্যবহারের অভিযোগই নয়, সেগুলোর প্রকৃত উৎস গোপন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তকারীরা দাবি করেছেন।
তদন্তের আওতায় থাকা অভিযোগ অনুযায়ী, চীনা তৈরি যন্ত্রাংশের গায়ে থাকা পরিচিতিমূলক চিহ্ন মুছে ফেলা বা আড়াল করা হয়েছিল। পাশাপাশি এসব উপাদানের উৎপত্তি সম্পর্কে ভুয়া সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর মাধ্যমে ড্রোনগুলোকে সামরিক ক্রয়ের নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। তদন্তকারীরা আরও সন্দেহ করছেন, অভিযুক্তরা চীনের একটি বাণিজ্যিক অনলাইন বাজার থেকেও কিছু যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছিলেন।
ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু সরবরাহ চুক্তি বা ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়াচ্ছে। চলতি বছর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ড্রোন ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদন ও সংগ্রহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সামরিক ড্রোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামে সম্ভাব্য চীনা উপাদানের প্রবেশ সরবরাহের নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই উদ্বেগ তৈরি করছে।
এর আগে মে মাসেও তাইওয়ানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ড্রোনে ‘চিএন’ চিহ্নযুক্ত কিছু চিপ পাওয়া যাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নির্মাতা তখন দাবি করেছিল, চিপগুলো ফরাসি প্রতিষ্ঠান এসটিমাইক্রোইলেকট্রনিক্সের তৈরি এবং ওই চিহ্ন চীনে সেগুলোর মোড়কজাতকরণের স্থান নির্দেশ করে। প্রতিষ্ঠানটি চীনে তৈরি উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
বর্তমান তদন্তে অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে বিষয়টি তাইওয়ানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে উৎস যাচাই, সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চীনের তৈরি উপাদান যদি সামরিক ব্যবস্থায় অঘোষিতভাবে প্রবেশ করে, তাহলে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই ২ ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা তাইওয়ানের ড্রোন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সরবরাহব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
