যুক্তরাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের একটি জাতীয় আইনি তথ্যভান্ডারে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি তথ্য চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী, পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, চাকরির পদবিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। হামলার সবচেয়ে বড় অংশটি হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কেন্দ্রের অনলাইন সেবায়, যেখান থেকে ৬ লাখের বেশি তথ্য চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। এছাড়া বিদেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির অনলাইন সেবার একটি পৃথক তথ্যভান্ডার থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সময়ে পুলিশের জাতীয় আইনি তথ্যভান্ডারেও অনুপ্রবেশের দাবি করেছে হামলাকারীরা। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেখান থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে পুলিশ সদস্য, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কর্মীদের নাম, কর্মস্থল এবং সরকারি ই-মেইল ঠিকানা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের জনসেবা কার্যক্রমে প্রশ্ন পাঠানো কিছু সাধারণ নাগরিকের নাম ও ই-মেইলও চুরি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী, সাক্ষী বা অপরাধীদের গোপন তথ্য এই তথ্যভান্ডারে ছিল না এবং সেগুলো ফাঁস হওয়ার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। হামলার দায় স্বীকার করেছে একটি নতুন হ্যাকিং গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ওয়েবসাইটে চুরি হওয়া তথ্যের নমুনা প্রকাশ করে নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ না করলে পুরো তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সরকারি কম্পিউটার ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার মতো কোনো ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি।
তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। পুলিশের তথ্যভান্ডার থেকে কিছু পাসওয়ার্ডও চুরি হয়েছে বলে জানা গেলেও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একই পাসওয়ার্ড অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যবস্থায় ব্যবহার করেছেন কি না। ঘটনাটি তদন্তে দেশের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা, জাতীয় অপরাধ তদন্ত সংস্থা এবং তথ্য সুরক্ষা কমিশন যৌথভাবে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সংবেদনশীল সরকারি নথিতে অননুমোদিত প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি যোগাযোগভিত্তিক তথ্যভান্ডারও এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। যদিও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের প্রমাণ নেই, তবুও বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার হামলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
