ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জরুরি ভিত্তিতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা বি-১ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়। এর আগে ঘাঁটিটিতে প্রায় এক ডজন মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর চলাচলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরে তিনি নিশ্চিত করেন, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
ঠিক কী কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ফেয়ারফোর্ড মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ। পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত ভ্যান থেকে পেট্রল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
তবে এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে লন্ডন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশিংয়ের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে ঘটনাগুলোর তদন্ত অত্যন্ত জটিল। তদন্তে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান। ইরান অবশ্য ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ঘিরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে মার্চে ফেয়ারফোর্ড ও আরএএফ দিয়েগো গার্সিয়াসহ কয়েকটি ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয় ব্রিটিশ সরকার।
Source- Reuters
