অর্থনীতিJun 28, 20264 min read

বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা, সার আমদানি ও জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক ১.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অনুমোদন করেছে।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ববাজারে সার, জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করতে বাংলাদেশের জন্য ১.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন ২টি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে, যার লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন, জীবিকা সুরক্ষা, জরুরি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং অপরিহার্য সেবা চালু রাখা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোট অর্থায়নের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে ‘খাদ্যনিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা’ প্রকল্পে। এই অর্থের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাই–অক্টোবর আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেক হবে ইউরিয়া সার। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, আমন ও বোরো মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে এবং দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সার সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে খাদ্যনিরাপত্তা, আয় এবং কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘জরুরি প্রতিক্রিয়া সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ছাড়যোগ্য অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ ও জীবিকা সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য সংকটকালীন সময়ে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করা। একই সঙ্গে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পানি সরবরাহের মতো অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে অর্থায়ন করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই তহবিল ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব কমিয়ে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।