আন্তর্জাতিকAug 21, 20264 min read

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

শেয়ার করুন:
হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির দীর্ঘদিনের সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলা এবং হাইতির জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের হাইতিতে পাঠানোর বিষয়ে গ্যাং দমন বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করতে কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি নথিতে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মোতায়েনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত নতুন গ্যাং দমন বাহিনীটি হাইতিতে আগের বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশনের পরিবর্তে কাজ করছে। নতুন বাহিনীর অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫,৫০০।

এর প্রধান দায়িত্ব হলো সশস্ত্র গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, তাদের সক্ষমতা কমানো এবং হাইতির জাতীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। বাংলাদেশ এই বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ সদস্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশি সদস্যদের বড় অংশ পুলিশ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বড় অংশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ, সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তায় হাইতির নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা নতুন বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর আগে কেনিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল।

তবে সেই উদ্যোগে পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থায়নের ঘাটতি ছিল। নতুন বাহিনীটি তুলনামূলক বড় পরিসরে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ১,৫০০ সদস্যের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হলে এটি হাইতিতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে মোতায়েনের আগে সমঝোতা স্মারক, দায়িত্ব, সদস্যদের নিরাপত্তা এবং কার্যক্রমের কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন হবে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশি সদস্যরা হাইতির স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে সশস্ত্র গ্যাং দমন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অংশ নেবেন।

সম্পর্কিত খবর

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।