অর্থনীতি•Aug 29, 2026•4 min read

২০৩০ সালে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতি হতে পারে বাংলাদেশ - আইএমএফ এর পূর্বাভাস।

স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|অর্থনীতি

আইএমএফের পূর্বাভাসভিত্তিক বিশ্লেষণে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের নমিনাল জিডিপি প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশটিকে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত করতে পারে।

শেয়ার করুন:
২০৩০ সালে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতি হতে পারে বাংলাদেশ - আইএমএফ এর পূর্বাভাস।

বাংলাদেশের অর্থনীতি আগামী কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বড় হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কানাডাভিত্তিক তথ্যচিত্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তৈরি বিশ্লেষণে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের নমিনাল জিডিপি প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

একই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বিশ্বের মোট অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য এই আকার দেশটির বৈশ্বিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। পূর্বাভাসটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির মোট আকারের বিচারে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো কয়েকটি দেশের কাছাকাছি বা তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অবস্থানে যেতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

তবে ২০৩০ সালের এই অবস্থানকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার, বিনিয়োগ, রপ্তানি, উৎপাদনশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জিডিপির আকারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

পূর্বাভাস পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণও রয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ২০২৩ সালের একটি বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য ব্যবহার করে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। বর্তমান বিশ্লেষণে সেই অবস্থান ৩২তম হিসেবে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নয়; নতুন তথ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে এসব হিসাব সংশোধিত হতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে তাই সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়াতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে সক্ষমতা বাড়ানোও প্রয়োজন।

কারণ বিশ্বের বড় অর্থনীতির তালিকায় অবস্থান উন্নত হওয়া অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও সেটিই উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং আয়বৈষম্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ২০৩০ সালের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু অর্থনীতির মোট আকার নয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।

সিআইএর গোপন মূল্যায়ন: গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় ধসের ঝুঁকিতে ইসরায়েল

গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আকাশ সুরক্ষায় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক: মার্কিন স্পেস ফোর্সের নতুন 'SPACEFOR-NORTH' মহাকাশ ডিফেন্স গ্রিড

উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।

পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।