অর্থনীতি•Jun 14, 2026•4 min read

বাংলাদেশের ২০টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি: ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে ঝুঁকির চাপ

স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|অর্থনীতি

বাংলাদেশের প্রায় ২০টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানা গেছে। এতে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ঋণ প্রবাহে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ২০টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি: ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে ঝুঁকির চাপ

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে মূলধন ঘাটতির সংকট একটি গুরুতর আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রায় ২০টি ব্যাংকে পর্যাপ্ত মূলধন না থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কয়েকটি বেসরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত ও ইসলামী ব্যাংকে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সাধারণত ১০–১২.৫ শতাংশের মধ্যে থাকা প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক সামষ্টিক অবস্থায় অনেক ব্যাংকের এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে গেছে, যা আর্থিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ঘাটতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে চলা অনাদায়ী ঋণ, দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাবিত ঋণ বিতরণ এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সের ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতির অতিরিক্ত ব্যবহার প্রকৃত ক্ষতির চিত্র আড়াল করেছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা থেকে শুরু করে দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে, ফলে বিনিয়োগ প্রবাহ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর আস্থা হ্রাস পাওয়ার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা পুরো অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, অনাদায়ী ঋণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করা, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূতকরণ এবং সুশাসন শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। পাশাপাশি ঝুঁকি ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরও কার্যকর করা হলে ব্যাংকিং খাত ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।

সিআইএর গোপন মূল্যায়ন: গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় ধসের ঝুঁকিতে ইসরায়েল

গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আকাশ সুরক্ষায় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক: মার্কিন স্পেস ফোর্সের নতুন 'SPACEFOR-NORTH' মহাকাশ ডিফেন্স গ্রিড

উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।

পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।