বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ কোনোভাবেই বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) পঞ্চমবারের মতো এ আয়োজন করে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বঙ্গোপসাগর এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া, কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নীতি কোনো পক্ষ বেছে নেওয়া নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, সেটিই বেছে নেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, কৌশলগত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বড় শক্তি ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদও। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব দেশের জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান সবচেয়ে কম, তারাই এর ক্ষতি মোকাবিলা ও ঋণ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
নাশিদ বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৫টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ঋণখেলাপির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এসব দেশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কৃচ্ছ্রসাধনমূলক কর্মসূচি, ভর্তুকি কমানো ও কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেয়।
তার ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবের শিকার দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার পাওয়া উচিত। অথচ ধনী দেশগুলো পৃথিবীর সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে, আর এখন সেই পরিবেশগত ক্ষতির মূল্য দিতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে।
সম্মেলনের শেষ দিনে ‘বহুমেরু বিশ্বে সক্ষমতা, প্রভাব ও নেতৃত্ব’ শিরোনামেও একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতা ক্রমেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নতুন কিছু দেশ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত ও ঘটনাপ্রবাহে বাড়তি প্রভাব তৈরি করছে।
আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে, বেলজিয়ামভিত্তিক আগোরা স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জোভান রাতকোভিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদ এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজ বক্তব্য দেন। আলোচনা সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওরাকল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের অংশীদার ভ্লাদা গালান।
সূত্র: নিউ এজ
