দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আর্থিক খাত নতুন চাপের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, খেলাপি ঋণের অনুপাতের দিক থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংকিং খাতের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের একটি বড় অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ, দুর্বল তদারকি, জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নতুন ঋণ বিতরণেও নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংকের তারল্য সংকট আরও গভীর হয়, বিনিয়োগে গতি কমে যায় এবং আমানতকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের দাবি, উচ্চ সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে অনেক শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। তবে সমালোচকদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ কেবল অর্থনৈতিক চাপ নয়; দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থার অভাবও সমানভাবে দায়ী। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পর বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন ও তদারকি প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি না হয়। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই ব্যাংকিং খাতে কার্যকর সংস্কার, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পর খেলাপি ঋণে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ।
বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।