পূর্ব আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইথিওপিয়া সামরিক ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে দেশটিতে অন্তত ২টি কারখানায় ড্রোন তৈরি বা সংযোজনের কাজ চলছে এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশটির সামরিক ড্রোন বহর এখন হাজারের ঘরে পৌঁছেছে। এর ফলে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ মোকাবিলায় ইথিওপিয়ার হাতে আরও শক্তিশালী নজরদারি ও আঘাতের উপায় তৈরি হচ্ছে।
ইথিওপিয়ার ড্রোন কর্মসূচির পেছনে দেশটির ২০২০–২০২২ সালের টাইগ্রে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে। ওই সংঘাতে তুরস্কের তৈরি বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে টাইগ্রে বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়। বিদ্রোহী বাহিনী একপর্যায়ে রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর ড্রোনকে শুধু বিদেশি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সংযোজনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেয় ইথিওপিয়া।
বর্তমানে ইথিওপিয়ার হাতে তুরস্কের বাইরাকতার টিবি-২ ও আকিনজি, চীনের উইং লুং এবং ইরানের মোহাজের-৬ ধরনের ড্রোন রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের মার্চে রাজধানী আদ্দিস আবাবায় স্কাইউইন অ্যারোনটিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানা উদ্বোধন করা হয়। পরে আরেকটি কারখানা চালুর খবরও আসে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেরেমি বিনি জানান, স্কাইউইনে প্রদর্শিত ‘এসডব্লিউ০১’ মডেলটি বাজারে পাওয়া একটি চীনা নকশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে ইথিওপিয়ার স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের ভূমিকা কতটা, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।
ড্রোনের ব্যবহার ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতেও বাড়ছে। আমহারা অঞ্চলে ফানো মিলিশিয়া, ওরোমিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং টাইগ্রে অঞ্চলেও এসব ড্রোন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, আমহারা অঞ্চলে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১০২টি ড্রোন হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। চলতি বছর টাইগ্রেতেও একাধিক হামলার তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও সংঘাত পর্যবেক্ষকদের একাংশ বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে।
এই পরিবর্তনের অর্থ শুধু ইথিওপিয়ার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; বরং সশস্ত্র সংঘাত পরিচালনার ধরনও বদলে যাচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচের ছোট ড্রোন বড় বাহিনীর জন্য দ্রুত নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং গোলন্দাজ হামলায় সহায়তা করতে পারে। কিছু ছোট ড্রোনে বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতাও রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইথিওপিয়ার ড্রোন কর্মসূচি দেশটির সামরিক আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠছে। তবে ‘হাজার হাজার’ ড্রোনের প্রকৃত সংখ্যা, স্থানীয় উৎপাদনের প্রকৃত পরিমাণ এবং কতটা প্রযুক্তি দেশীয়—এসব বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য নেই। তাই ইথিওপিয়াকে দ্রুত উত্থানশীল ড্রোন শক্তি হিসেবে দেখা গেলেও এর প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
