গাজার যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে ১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ফাতেমা রাদির কোরআন মুখস্থ করার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রচারিত প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ফাতেমা তার পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারিয়েছে এবং নিজেও গুরুতর আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের আঘাতে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন।
এত কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কোরআন মুখস্থ করার সংকল্প থেকে সরে যায়নি ফাতেমা। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও শুনে শুনে কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে বলে প্রচারিত তথ্যে বলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার লক্ষ্য অর্জন করেছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার এই অর্জন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ব্যক্তিগত সংকল্প ও মানসিক দৃঢ়তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ফাতেমা তার কোরআন হিফজের অর্জনকে নিহত বাবার জন্য ‘সম্মানের মুকুট’ হিসেবে উৎসর্গ করেছে। পরিবারের সদস্যদের হারানোর শোক, নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
ফাতেমার ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; এটি গাজার শিশুদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বহুমাত্রিক প্রভাবও তুলে ধরে। যুদ্ধের কারণে শিশুরা শুধু প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঝুঁকিতে নেই, বরং পরিবার হারানো, অঙ্গহানি, দৃষ্টিশক্তি হারানো, বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও যাচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধের মধ্যেও কোরআন মুখস্থ করার আরও কিছু ঘটনার উল্লেখ বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে ১২ বছর বয়সী ফাজারের কথা বলা হয়েছে। বাবাকে হারানোর পরও সে কোরআন মুখস্থ করার লক্ষ্য ধরে রেখেছিল বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। আরেক প্রতিবেদনে গাজার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর পুরো কোরআন মুখস্থ করার কথা উঠে আসে।
তবে ফাতেমাকে ঘিরে প্রচারিত হামলা, পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু, শারীরিক ক্ষতি এবং কোরআন মুখস্থ করার তথ্যের স্বাধীন যাচাই সীমিত—তাই এসব তথ্যকে প্রতিবেদনে বর্ণিত দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। তবু ঘটনাটি গাজার শিশুদের যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, তাদের গভীর ক্ষতি এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবন ও বিশ্বাস ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে সামনে আনে।
