ফ্রান্সজুড়ে হাইস্কুল অবরোধকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে ৪৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙচুর, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার অভিযোগে এসব গ্রেপ্তার করা হয়।
বিক্ষোভের সময় অন্তত ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন বলে নুনেজ জানিয়েছেন। একই সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মীদের মধ্যেও ৩১ জন আহত হয়েছেন।
শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট
ফ্রান্সের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বড় ক্লাস, জটিল ও দীর্ঘ সময়সূচি, শিক্ষক সংকট এবং স্কুলের অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনটি প্রথমে প্যারিসের আশপাশের এলাকায় শুরু হলেও পরে দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর হিসাবে, প্রায় ৪০০টি হাইস্কুলে অবরোধ বা বিক্ষোভ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষক না থাকা বা অনুপস্থিত শিক্ষকের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস করার চাপ। কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ভবনের দুর্বল অবস্থা ও অতিরিক্ত গরমের সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন।
সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কোথাও আবর্জনার স্তূপে আগুন দেওয়া হয়, আবার কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি স্থানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
নুনেজের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বিক্ষোভে পুলিশের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবারও অবরোধের ডাক
পরিস্থিতি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন Union Syndicale Lycéenne (USL) বৃহস্পতিবারও হাইস্কুল অবরোধ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও শিক্ষক, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এরই মধ্যে বুধবার আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ৬২৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ওই দিন ৮৩ জন পুলিশ ও জেনদার্ম আহত হয়েছেন। বুধবার মোট ৩৫৬টি হাইস্কুলে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল বলে তিনি জানান।
বৃহত্তর সরকারি খাতের আন্দোলনের সঙ্গেও যোগ
হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটি ফ্রান্সের বৃহত্তর সরকারি খাতের ধর্মঘটের সঙ্গেও একই সময়ে চলছে। সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি খাতের কর্মীরাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়, জনসেবা এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়েও ফ্রান্সে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
