আন্তর্জাতিক•Jul 2, 2026•4 min read

বিশ্বকাপের মাঝেই গাজায় ফিলিস্তিনি গোলরক্ষককে হত্যা করলো ইজরায়েল ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সেলিম খাদের আল-আশকার নিহত হয়েছেন। সংঘাতে ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষয়ক্ষতি আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপের মাঝেই গাজায় ফিলিস্তিনি গোলরক্ষককে হত্যা করলো ইজরায়েল ।

বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা চলছে, ঠিক সেই সময় গাজার ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসভিত্তিক খাদামাত খান ইউনিস ক্লাবের ৩২ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেলিম খাদের আল-আশকার নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-কারারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ফুটবলে পরিচিত মুখ হিসেবে খেলেছেন আল-আশকার। খাদামাত খান ইউনিসের পাশাপাশি তিনি আল-আকসা ও আল-মুসাদ্দার ক্রীড়া ক্লাবের হয়েও মাঠে নেমেছেন এবং নিজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে একটি পরিচিত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। তবে মাঠের বাইরেও তার জীবনে শুরু হয়েছিল নতুন এক অধ্যায়। মাত্র ৫ মাস আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তাদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ৭ ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার মৃত্যু স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত শুধু সাধারণ মানুষের জীবনই নয়, ক্রীড়াঙ্গনকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফিলিস্তিনি ক্রীড়া মহলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এ পর্যন্ত ক্রীড়াজগতের ১ হাজার ৯ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৬৭ জনই ফুটবলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেখায়, সংঘাতের প্রভাব কেবল অবকাঠামো বা জনজীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। বিশ্ব যখন আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরের আনন্দে মগ্ন, তখন গাজার ক্রীড়াঙ্গনে একজন পরিচিত গোলরক্ষকের মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্য কতটা গভীর। আল-আশকারের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি ক্লাবের নির্ভরতার প্রতীক এবং স্থানীয় ফুটবলের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি গাজায় সংঘাতের মধ্যে ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং যুদ্ধের প্রভাব যে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে, সেই বাস্তবতাকেও আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।