মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতিদের রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর হয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশ্ব তেল বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ কমে ১০৩.০৬ ডলারে নেমে আসে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ কমে ৯৯.৪১ ডলারে দাঁড়ায়। তেলের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও রপ্তানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটার তথ্য।
এর আগে শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় হুতিরা। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। হামলার ফলে সৌদি তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ বা রপ্তানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের ছোড়া সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই প্রতিহত করেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা কিছুটা কমেছে এবং এর প্রভাব তেলের দামের ওপর পড়েছে। সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হওয়ায় দেশটির তেল অবকাঠামোতে যেকোনো বড় হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকা বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে জাহাজ চলাচলে বাধা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে হামলার পরও সৌদি তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকার ইঙ্গিত বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমে না এলেও সরবরাহব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কার আশঙ্কা হ্রাস পাওয়ায় ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই সোমবার সকালে নিম্নমুখী হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় তেলের বাজারে ভবিষ্যৎ দামের গতিপথ নির্ভর করবে সৌদি তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।
