মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর আল জাজিরার প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে মূল উদ্বেগ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার ক্ষেত্রে ইরান পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামরিক উত্তেজনা বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে মূল্য আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই জলপথ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা তেলের দামের মধ্যে অতিরিক্ত ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ যোগ করছেন। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কাকে বর্তমান বাজারদামের মধ্যেই হিসাব করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহে বাস্তব সংকট তৈরি হওয়ার আগেই শুধু আশঙ্কার কারণে তেলের দাম বাড়ছে।
বাজারের এই মনোভাব আগের অধিবেশনেও স্পষ্ট হয়েছে। ওই সময় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মঙ্গলবারও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিকে এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় তেলের মূল্য উচ্চ পর্যায়ে থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক তেলবাজারের অনিশ্চয়তাও তত গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বাজারের মূল দৃষ্টি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং হরমুজের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে কি না—এই দুই বিষয়ের দিকে।
