অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর মসজিদটি বন্ধ করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুসলিমদের প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হেবরনের পুরোনো শহর ও ইব্রাহিমি মসজিদ ঘিরে ধর্মীয় উপাসনা এবং মানুষের চলাচল দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান—তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মসজিদটি হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত এবং এর সঙ্গে হজরত ইব্রাহিম, হজরত ইসহাক ও তাঁদের পরিবারের কবরস্থানের ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত রয়েছে। ১৯৯৪ সালের হত্যাকাণ্ডের পর মসজিদটির ব্যবহার ও প্রবেশাধিকার বিভক্ত করা হয়। বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশ মুসলিম ও ইহুদি উপাসনার জন্য নির্ধারিত এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবের সময় এক পক্ষের জন্য পুরো স্থাপনাটি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক বন্ধের সঙ্গে মসজিদের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদের দিকে যাওয়া সামরিক তল্লাশিচৌকি ও বৈদ্যুতিক প্রবেশদ্বার বন্ধ করা হয়। এর ফলে শুধু মুসল্লিদের প্রবেশই সীমিত হয়নি, কাছাকাছি কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। ইব্রাহিমি বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা, আর মেয়েদের একটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় মসজিদ বন্ধের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এটিকে ধর্মীয় স্থানে ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালকও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে মুসলিমদের উপাসনার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বক্তব্য ফিলিস্তিনি পক্ষের অবস্থান হিসেবে এসেছে; ইসরায়েলি বাহিনী তাদের পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
ইব্রাহিমি মসজিদকে ঘিরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। চলতি বছর মে মাসেও ঈদুল আজহার সময় মসজিদে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল এবং পরে মুসলিমদের জন্য মসজিদ বন্ধের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উপাসনার অধিকার এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। বর্তমান ঘটনায় মসজিদটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুসলিমদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়ভাবে নজর রয়েছে।
