ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় আমদানি করা প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। চালের মধ্যে ক্ষতিকর আফলাটক্সিনের উপস্থিতির সন্দেহ দেখা দেওয়ার পর নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে একই চালানের ৯৮৪ টন চাল পচা, দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবারের অনুপযোগী হওয়ায় সরবরাহকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে ফেরত দেওয়া ওই চাল আবার খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে সরবরাহের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টন চাল গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চালের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় চালকে খাদ্যোপযোগী ঘোষণা করার পর তা খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৪ ও ২৫ জুলাই চাল খালাসের পর এর একটি অংশ চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট, ঢাকার তেজগাঁও এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়।
গুদামে পৌঁছানোর পর চালের একাংশের রং লালচে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ভেজাভাব ও পচন দেখা দেয়। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বেশি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ৯৮৪ টন চাল আলাদা করে সরবরাহকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হয়। এতে পুরো চালানের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয় এবং খাদ্য অধিদপ্তরকে অবশিষ্ট চালের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক হতে হয়।
চালের মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দল গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় চালের মধ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই ফল এখনো চূড়ান্ত নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা চলছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টন চাল বিতরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফেরত পাঠানো ৯৮৪ টন চাল ধ্বংস বা পুনঃরপ্তানি না করে আবার খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে সরবরাহের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার চালের পুরো চালান বা কোনো অংশ গ্রহণ না করলে চুক্তি অনুযায়ী তা সরবরাহকারী দেশে পুনঃরপ্তানি করতে হবে। আর চালের মান নিম্নমানের প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা ধ্বংস করার কথা।
আফলাটক্সিন কিছু ছত্রাকের তৈরি বিষাক্ত পদার্থ, যা দূষিত খাদ্যে থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়ার আগে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চালের গুণমান যাচাই, নিম্নমানের পণ্য ব্যবস্থাপনা এবং আমদানি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
