মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক সদস্য ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরান মোবাইল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ এবং যোগাযোগভিত্তিক নজরদারি পরিচালনা করেছে বলে লন্ডনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মোবাইল নজরদারি পর্যবেক্ষণ গবেষণা প্রকল্পের দূরসংযোগ উপাত্ত এবং বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত শুরুর আগে থেকেই এই নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময়ও তা অব্যাহত থাকে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূরসংযোগ নেটওয়ার্কে বারবার বিশেষ ধরনের সংকেত অনুরোধ পাঠানো হয়, যা নিজস্ব নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা ভ্রাম্যমাণ মোবাইল সংযোগের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান অথবা তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আঞ্চলিক মোবাইল সেবাদাতাদের ভ্রাম্যমাণ সংযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মার্কিন সামরিক সদস্যদের অবস্থান জানার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে মোবাইল ব্যবহারকারীদের অবস্থান নির্ণয়ে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনভিত্তিক তথ্যভাণ্ডারও ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো যন্ত্রে সরাসরি অনুপ্রবেশ না করেও ব্যবহারকারীর অবস্থান ও চলাচলের ধরণ বিশ্লেষণ করা সম্ভব। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের অবস্থান, এমনকি তারা কোন আবাসিক স্থাপনায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ সাইবার নিরাপত্তা গবেষক বলেন, ইরানের কাছে তাৎক্ষণিক ও ধারাবাহিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা যদি এই সুযোগ ব্যবহার করে থাকে, তবে তা বিস্ময়কর নয়। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এপ্রিল মাসে কংগ্রেসকে জানায়, প্রতিপক্ষ শক্তি বাণিজ্যিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সদস্যদের পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে—এমন একাধিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন তারা পেয়েছে। তবে তাদের দাবি, বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এই তথ্য ব্যবহার করে সরাসরি কোনো সামরিক হামলা পরিচালিত হয়েছে। পুরো ঘটনাটি আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে, যেখানে তথ্যই ক্রমশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের মোবাইল নেটওয়ার্ক হ্যাক করে মার্কিন সেনাদের উপর নজরদারি করে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্তে ইরান মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি আঞ্চলিক সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।