মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে তেলবাহী জাহাজগুলোও লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এরই মধ্যে বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার এই মাত্রায় পৌঁছাল। দিনের শুরুতে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৯ দশমিক ২২ ডলারে উঠলেও পরে তা ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৯৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ৫টি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ছিল ইরানের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ২টি মার্কিন জাহাজ এবং ৮টি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১০টি ‘লঙ্ঘনকারী জাহাজ’কে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে তারা। ইরানের দাবি, এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায়’ প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
তেলবাহী জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার এই দাবিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরান জর্ডানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। জর্ডানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলার সব দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবের সবচেয়ে বড় সূচক এখন তেলের বাজার। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে সরবরাহে বাস্তব ঘাটতি তৈরি হওয়ার আগেই বাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকির মূল্য যুক্ত হচ্ছে। এ কারণেই তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সম্পদে হামলার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত এখন শুধু স্থল ও আকাশপথে সীমাবদ্ধ নেই; তেল পরিবহন, বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথও সরাসরি সংঘাতের অংশ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
