ইসরায়েল মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মহাকাশ থেকেই হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সামরিক বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বের সেরা মেধাবীদের কাজে লাগিয়ে এমন একটি সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলা, যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তার দাবি, মহাকাশ থেকে হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে ইসরায়েলকে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে হবে। কাটজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সফল হলে তা শুধু প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত আঘাত হানা, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও তিনি মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতায় শীর্ষ শক্তি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে এবারই প্রথম তিনি স্পষ্টভাবে মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েল স্থলভিত্তিক লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকেও কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রকল্পে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে কাজ চলছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরায়েল ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যেগুলোর কিছু স্যাটেলাইটবিরোধী সক্ষমতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে কাটজের এই বক্তব্য যে বিশ্বের আর কোনো দেশের মহাকাশে হামলার সক্ষমতা নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে স্যাটেলাইটবিরোধী প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেজার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অচল বা ধ্বংস করার পাশাপাশি মহাকাশে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষও অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ইসরায়েলের বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাকাশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন স্যাটেলাইট অচল করা, যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি, কক্ষপথ পরিবর্তন এবং লেজারভিত্তিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিকল্প কৌশল উন্নয়নে কাজ করছে। ফলে মহাকাশ ধীরে ধীরে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্র নয়, বরং ভবিষ্যতের কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে পরিণত হচ্ছে।
মহাকাশ থেকে হামলায় সক্ষম অস্ত্র বানাচ্ছে ইসরায়েল !
ইসরায়েল মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের সামরিক সক্ষমতা ও মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।