মহাকাশকে সামরিক সক্ষমতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে ইসরায়েল পৃথিবীর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে কক্ষপথ থেকে সরাসরি আঘাত হানার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে হারেৎস। প্রস্তাবিত ধারণায় কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা নেই। বরং কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট থেকে অত্যন্ত উচ্চগতিতে ভারী ধাতব বস্তু বা দণ্ড পৃথিবীর লক্ষ্যবস্তুর দিকে নিক্ষেপ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তাত্ত্বিকভাবে এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত তৈরি করতে পারে এবং শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনাতেও ক্ষতি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি এখনো পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত ধারণার পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবে এমন অস্ত্র তৈরি, পরীক্ষা বা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে এটিকে ইসরায়েলের কার্যকর সামরিক অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা এখনই যথাযথ নয়।
এর পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন শেকেল বা ৫৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইসরায়েল। অর্থায়ন এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত না হলেও পরিকল্পনার আওতায় সামরিক স্যাটেলাইট, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির জন্য অফেক সিরিজের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সামরিক কার্যক্রমে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগের গুরুত্বও বেড়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সক্ষমতা শুধু পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক ব্যবহারের দিকেও বিস্তৃত হতে পারে।
এই পরিবর্তন শুধু ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে সামরিক স্যাটেলাইট, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, নিরাপদ যোগাযোগ, সাইবার ব্যবস্থা এবং উপগ্রহবিরোধী প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। ফলে মহাকাশ ক্রমেই সামরিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাতের প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ পেলে এই প্রতিযোগিতা আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে যেতে পারে। কারণ এতে মহাকাশের সামরিকীকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে। তাই ইসরায়েলের বর্তমান উদ্যোগকে তাৎক্ষণিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতার সম্ভাব্য দিক হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত।
