ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে দেশটির প্রধান গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের বিপরীতে ভোলোদিমিরস্কা স্ট্রিটে অবস্থিত এসবিইউ সদর দপ্তরেই হামলাটি চালানো হয়। একটি ড্রোন সরাসরি এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেক্সান্দর পোকলাদের কার্যালয় লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তবে হামলার সময় তিনি আহত হননি।
হামলার পর সদর দপ্তরের আশপাশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু হয়। একইসঙ্গে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রাজধানীর ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এত কাছাকাছি হামলার ঘটনা কিয়েভের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন দিকও সামনে এনেছে।
গত মাসের শেষ দিক থেকেই কিয়েভে রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চলছে। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপনা এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় হতাহত এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। তবে এবার সরাসরি দেশের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা স্থাপনায় আঘাতের ঘটনা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসবিইউ ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই এর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা শুধু একটি স্থাপনায় আঘাত নয়, বরং যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কিয়েভে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় হামলা ঠেকানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা এখন ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামলার পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার এই আঘাতের জবাব দিতে ইউক্রেন কোথায় পাল্টা হামলা চালাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ প্রভাব নিশ্চিত করতে সেই পাল্টা হামলার সময় পরে নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর ফলে হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে গোয়েন্দা সদর দপ্তরে এই হামলা তাই তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতির ঘোষণায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনা শুধু কিয়েভে আরেকটি ড্রোন হামলা নয়; এটি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে রাজধানীর কৌশলগত ও নিরাপত্তা অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
