আন্তর্জাতিক•Sep 6, 2026•4 min read

কাতারকে বোমা মারার দাবি নেতানিয়াহুর, গাজায় কাতারের অর্থ নিয়েও সাফাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কাতারে হামলার কথা স্বীকার করে গাজায় কাতারের অর্থ হামাসকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন।

শেয়ার করুন:
কাতারকে বোমা মারার দাবি নেতানিয়াহুর, গাজায় কাতারের অর্থ নিয়েও সাফাই

কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে দেশটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো বিপুল অর্থ হামাসের সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেছেন। শনিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম i24NEWS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন এবং পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেন।

কাতারের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের সময় দোহা ইসরায়েলের জন্য শত্রুভাবাপন্ন অবস্থানে ছিল এবং তেলআবিবের নীতিতে কাতার কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি আরও জানান, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল কাতারেও হামলা চালিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের কয়েক দিন পরই দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার কথা। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের নেতাদের একটি বৈঠকে ইসরায়েলি হামলায় ৫ হামাস সদস্য ও ১ কাতারি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে। কাতারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এই রাজনৈতিক কার্যালয় দোহায় স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দোহায় হামলার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানিকে ফোন করে হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

গাজায় কাতারের আর্থিক সহায়তা নিয়েও নেতানিয়াহু সাফাই দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই কাতারের অর্থ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং এসব অর্থ মানবিক সহায়তায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়। তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় সংগঠনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছিল। কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, গাজায় পাঠানো সব সহায়তা জনগণের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল নজরদারির আওতায়।

এদিকে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখন নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন। ফলে কাতারকে ঘিরে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু অতীতের সামরিক ঘটনার ব্যাখ্যা নয়, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।