প্রযুক্তি•May 27, 2026•4 min read

এনটিএমসির ৯৫ কোটি টাকার নজরদারি প্রযুক্তি: সাইবার নিরাপত্তা নাকি অনলাইন মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়

প্রযুক্তি ডেস্ক•প্রযুক্তি|প্রযুক্তি

এনটিএমসির জন্য প্রায় ৯৫ কোটি টাকার নতুন নজরদারি প্রযুক্তি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

শেয়ার করুন:
এনটিএমসির ৯৫ কোটি টাকার নজরদারি প্রযুক্তি: সাইবার নিরাপত্তা নাকি অনলাইন মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজরদারি এবং কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার নতুন প্রযুক্তি ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের জন্য “কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রাষ্ট্রবিরোধী, সহিংসতামূলক, অপরাধসংক্রান্ত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফায়ারওয়াল ব্যবস্থা, ইন্টারনেট তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন তথ্যকেন্দ্র সংযোগের যন্ত্রপাতি কেনা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় আকারের ইন্টারনেট তথ্যপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ, কনটেন্ট ফিল্টারিং, ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ এবং নেটওয়ার্ক তদারকি করা সম্ভব হবে। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে নাগরিক অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, অতীতে এই সংস্থাকে ঘিরে ফোনে আড়িপাতা, ব্যক্তিগত তথ্য নজরদারি এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছিল। তাদের মতে, “সরকারবিরোধী” বা “রাষ্ট্রবিরোধী” শব্দগুলোর বিস্তৃত ও অস্পষ্ট ব্যাখ্যা ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং ভিন্নমতের মানুষের অনলাইন কার্যক্রম সীমিত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সাইবার অপরাধ, জঙ্গিবাদ, সহিংস উসকানি এবং ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইন, বিচারিক তদারকি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজেই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ এবং ডিজিটাল আইন সংশোধন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, নতুন এই প্রকল্প সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য যদি কেবল অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তবে তার প্রয়োগ পদ্ধতিও হতে হবে জবাবদিহিমূলক ও আইনসম্মত। অন্যথায় এটি নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।