সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাকে সরকারি সফরে পাকিস্তানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ ও দামেস্কের মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানির সঙ্গে বৈঠকের সময় শাহবাজ শরিফ এই আমন্ত্রণ জানান। ইসহাক দারের আমন্ত্রণে ২ দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে থাকা আল-শাইবানির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। শাহবাজ শরিফ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
আসাদ আল-শাইবানির এই সফরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এটি তার পাকিস্তানে প্রথম সফর এবং প্রায় ১৯ বছর পর কোনো সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর। এর আগে ২০০৭ সালে সিরিয়ার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম পাকিস্তান সফর করেছিলেন। দীর্ঘ এই বিরতির পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সফর এবং একই সময়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার নতুন প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সিরিয়া যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ এবং দামেস্কে একটি যৌথ বিনিয়োগ ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আবাসন, জ্বালানি, পরিবহন, বন্দর, কৃষি, শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও এই উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।
শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান ও সিরিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সিরিয়ায় যাতায়াতকারী পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৯ বছর পর পাকিস্তান সফর এবং প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ ইসলামাবাদ-দামেস্ক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও অবকাঠামো সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।
