কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় উন্নীত করতে ১ হাজার ৩১১ কোটি ৫৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা, পূর্ত পরিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষ। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত এবং পুরো অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য রামু সেনানিবাসের বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করে এটিকে আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় উন্নীত করা। বর্তমানে এখানে ৮ হাজারের বেশি সেনাসদস্যের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮২.৯৭ বর্গমিটার আবাসিক ভবন এবং ৬ হাজার ১৫৮.৩০ বর্গমিটার অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর পাশাপাশি ২৫ হাজার মিটার নিকাশব্যবস্থা, ১১টি নলকূপ, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু আবাসন নির্মাণেই প্রকল্পটি সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেনানিবাসের কার্যক্রম আধুনিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রামু সেনানিবাসে বসবাস, প্রশাসনিক কার্যক্রম, যোগাযোগ, চিকিৎসা, পানি সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা একসঙ্গে বাড়বে।
রামুর ভৌগোলিক অবস্থান এই প্রকল্পকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কক্সবাজারের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামরিক সক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলে সীমান্ত অস্থিরতা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর অবকাঠামো শক্তিশালী করা শুধু সেনাসদস্যদের আবাসন নিশ্চিত করার বিষয় নয়; বরং প্রয়োজনের সময় দ্রুত মোতায়েন ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা তৈরির সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত।
এর আগে রামু সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে রামুর সামরিক গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে নতুন অবকাঠামো প্রকল্পকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখার চেয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রামু সেনানিবাসের আবাসন ও সহায়ক অবকাঠামোর ঘাটতি কমবে, সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় রামু সেনানিবাসের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
