আন্তর্জাতিক•Jul 13, 2026•4 min read

ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করছে ইজরায়েল।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

গাজা ও পশ্চিম তীরে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি অর্থনীতি, মানবিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:
ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করছে ইজরায়েল।

গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইজরায়েলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিশ্লেষকদের অভিযোগ, চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইজরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনি বাজারের ওপর প্রভাব বজায় রেখে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করছে। অন্যদিকে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ব্যবস্থা মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাস বা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার তুলনায় ইজরায়েল থেকে আসা বাণিজ্যিক পণ্যের প্রবেশকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইজরায়েলের একটি বড় কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গাজায় প্রায় ২ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা পরিচালনা করছে, অথচ গাজাভিত্তিক অনেক ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী নিরাপত্তা অনুমোদন না পাওয়ায় সরাসরি বাণিজ্যে অংশ নিতে পারছেন না। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের বহু ফিলিস্তিনি উৎপাদকও গাজায় নিজেদের পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজায় পণ্য বিক্রির অনুমতি মূলত বড় সরবরাহকারী ও পরিবেশকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, যার ফলে সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। গাজায় পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ সমন্বয়কারী কিছু ব্যবসায়ীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন, ফলে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের অনেক ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী কার্যত বাজারের বাইরে চলে যাচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, এই নীতির ফলে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যদের প্রভাব কমে যাচ্ছে। তবে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পণ্য প্রবেশ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণের মূল কারণ নিরাপত্তা এবং অস্ত্র বা অর্থ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানো ঠেকানো। ফলে গাজা ও পশ্চিম তীরের অর্থনীতি ঘিরে চলমান এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক—তিনটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্যে প্রকৃত বাস্তবতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।