মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা–সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এবং এর আওতায় সৌদি আরবকে কোনো অবস্থাতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি থাকলেও সৌদি আরবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে তাদের আব্রাহাম চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকে সমর্থন করলেও এ ধরনের সহযোগিতা অবশ্যই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তায় সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান ছাড়া তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে সম্মত হবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত এবং সৌদি আরবের অবস্থানের মধ্যে এখনো স্পষ্ট কূটনৈতিক দূরত্ব রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনীতি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদান এই চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। তবে আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরব এখনো ফিলিস্তিন প্রশ্নে সমাধান না হওয়ায় এর বাইরে রয়েছে। তাই ট্রাম্পের নতুন শর্ত ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমীকরণ, আঞ্চলিক জোট এবং যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
ইসরায়েল কে স্বীকৃতি দেয়ার শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে : ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিলেই সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কার্যকর হবে।

সম্পর্কিত খবর
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।
গোপন সিআইএ মূল্যায়নের বরাতে ইসরায়েলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার কথা উঠে এসেছে; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন SPACEFOR-NORTH কমান্ড সক্রিয় করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ সক্ষমতা সমন্বয়ে কাজ করবে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন এবং জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে; তেল খাতে চাপের মধ্যেই পরিবর্তনটি এলো।