আন্তর্জাতিক•Sep 15, 2026•4 min read

তুরস্কে নিষিদ্ধ LGBTQ+ সংগঠনে অভিযান, আটক অন্তত ৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অন্তত ৪৭ জন আটক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যা মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন:
তুরস্কে নিষিদ্ধ LGBTQ+ সংগঠনে অভিযান, আটক অন্তত ৪৭

তুরস্কে নিষিদ্ধ এলজিবিটিকিউ+ অধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ‘পতিতাবৃত্তি ও অশ্লীলতা’সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয়। রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে আটক ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ ও অধিকার সংগঠনের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ১২টি প্রদেশে অভিযান চালিয়ে ৩৮ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মাদক, ডিজিটাল সরঞ্জাম, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা অ্যালকোহল এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে রাজধানী আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, এলজিবিটিকিউ+ সংগঠন কাওস জিএলকে ঘিরে পৃথক তদন্তে আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আরও ৫ জনকে খোঁজা হচ্ছে।

তবে কাওস জিএলের দাবি, আটক ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ৫০। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের ১০ জনেরও বেশি কর্মীকে নিজ নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ+ সংগঠন, অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

তুরস্ক সরকার এই অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জন্মহার কমে যাওয়া ও জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলায় ‘পরিবার ও জনসংখ্যার দশক’ কর্মসূচি প্রচার করছেন। সরকারের বক্তব্য, পরিবারব্যবস্থা ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পরিবার সুরক্ষার নামে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় চাপ ও বৈষম্য আরও বাড়ানো হচ্ছে। তুরস্কের মানবাধিকার সমিতি বলেছে, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামটি অভিযানের প্রকৃত চরিত্র আড়াল করছে এবং এটি নাগরিক সমাজকে দুর্বল করার একটি প্রচেষ্টা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তুরস্কবিষয়ক প্রতিবেদক নাচো সানচেজ আমোরও ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনাকে দমন-পীড়ন বাড়ার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে তুরস্কের প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে অনুপযুক্তভাবে প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন ও মেরসিনের প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে পরিচালিত তদন্তে ১৫টি প্রদেশে ১৬২ সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফলে তুরস্কের সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করে একদিকে সরকারের পরিবার ও শিশু সুরক্ষার যুক্তি, অন্যদিকে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ—দুই ধরনের অবস্থানই সামনে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভিযান দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।